রোগ সারাতে ও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে তুলসি পাতার ব্যবহার

রোগ সারাতে তুলসি পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। নানাবিধ রোগ সারাতে দারুণভাবে সাহায্য করে থাকে তুলসি পাতা। যার উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও।

জেনে নিন নিয়ম মেনে প্রতিদিন তুলসি পাতা খেলে যেসব উপকার মিলতে পারে-

র’ক্ত পরিশু’দ্ধ হয়- প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২-৩ টি তুলসি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে র’ক্তে উপস্থিত ক্ষ’তিকর উপাদান এবং টক্সিন শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়।

ডায়াবেটিস দূরে থাকে- বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তুলসি পাতা খেলে র’ক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই স’ঙ্গে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও বাড়ে। ফলে শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। প্রস’ঙ্গত, মেটাবলিক ড্য়ামেজ-এর হাত থেকে লিভার এবং কিডনি-কে বাঁচাতেও তুলতি পাতা দারুণভাবে সাহায্য করে।

ক্যা’ন্সা’র দূরে থাকে- তুলসি পাতায় উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীরের ভেতরকার ক্যান্সার সেল যাতে কোনওভাবেই জন্ম নিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারের কাছে ঘেঁষার সুযোগই পায় না।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে- একাধিক পুষ্টিগু’ণে ভরপুর তুলসি পাতা, দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ছানি এবং গ্লুকোমা’র মতো চোখের রোগকে দূরে রাখতেও গু’রুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেই স’ঙ্গে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন আট’কাতেও সাহায্য করে।

সর্দি–জ্বরের প্রকো’প কমায়

তুলসি পাতা হল প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। তাই তো জ্বর এবং সর্দি-কাশি সারাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে তুলসি পাতা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র যে যে ভাইরাসের কারণে জ্বর হয়েছে, সেই জীবাণুগু’লোকে মা’রতে শুরু করে। ফলে শরীর ধীরে ধীরে চা’ঙ্গা হয়ে ওঠে।

ব্রণের প্রকো’প কমে

তুলসি পাতায় উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর ক্ষ’তিকর ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুদের স’ঙ্গে স’ঙ্গে মেরে ফেলে। ফলে ব্রণের প্রকো’প কমতে শুরু করে। সেই স’ঙ্গে নানাবিধ সংক্রমণে আ’ক্রা’ন্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। প্রস’ঙ্গত, ব্রণের চিকিৎসায় তুলসি পাতা খেতে পারেন অথবা সরাসরি মুখে পেস্ট বানিয়ে লাগাতেও পারেন। দুই ক্ষেত্রেই সমান উপকার পাওয়া যায়।

আচ্ছা, এখন আসি- কিভাবে তুলসি পাতা খাওয়া উচিত? চিবানো যখন যাব’ে না, তখন তো অন্য রাস্তা বের করতেই হবে। কি তাই তো? একেবারেই! কিন্তু অন্য কোনও রাস্তা আছে কি? আছে তো!

বিশেষজ্ঞদের মতে সরাসরি চিবিয়ে না খেয়ে বরং তুলসি পাতা দিয়ে বানানো চা খাওয়া যেতে পারে। অথবা অল্প করে মধুর স’ঙ্গে মিশিয়েও তুলসি পাতা গ্রহণ করতে পারেন। এমন প’দ্ধতিতে খেলে শরীরের কোনও ক্ষ’তিতো হবেই না বরং একাধিক উপকার হবে।

দুটি রেসিপি

বিভিন্নভাবে খাদ্য তালিকায় তুলসীর ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি রেসিপি-

তুলসীর চা– আধা চামচ আ’দা কুঁচি, ১২-১৫টি তুলসী পাতা এবং এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ এলাচ গু’ঁড়ো তিন কাপ পানিতে ১০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন। সামান্য মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে উপভোগ করুন তুলসীর চা।

তুলসীর সালাদ– এক কাপ শসা কুচি, ১২-১৫টি তুলসী পাতা, ৫০ গ্রাম টুকরা পনির, একটি লেবুর রস, এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, সামান্য লবণ এবং স্বাদের জন্য মর’িচ। সব উপকরণ মিশিয়ে উপভোগ করুন তুলসীর সালাদ।

About alamin

Check Also

চুল পড়া বন্ধ করবে নিমের রস

নারীর দীঘল কালো চুলের প্রেমে পড়েছেন কবি- সাহিত্যিকরাও। রচনা করেছেন কবিতা, গান, উপন্যাস। তবে তাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *