হঠাৎ স্ট্রোক হলে দ্রুত যেসব কাজ করতে হবে

স্ট্রোকে আ’ক্রা’’ন্ত রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য একজন সুস্থ মানুষের তুলনায় কিছুটা হলেও দুর্বল হয়। পাশাপাশি স্ট্রোকে আ’ক্রা’’ন্ত রোগীর সাধারণত ডায়াবেটিস, হাই ব্লাডপ্রেশার ইত্যাদির মতো ক্রনিক সমস্যা থাকে। আর এই অসুখগু’লো হলো করো’নার কো-মর’বিডিটি।

তাই স্ট্রোক থেকে ফিরে আসা রোগীর করো’না হলে সমস্যা জটিল পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি। তাই এই ধরনের মানুষকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

স্ট্রোকের রোগীরা কী করবেন?

১- স্ট্রোকের রোগীর সাধারণত স্ট্যাটিন, অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ চলে। এছাড়া সুগার, প্রেশারসহ অন্যান্য ক্রনিক রোগ থাকলে তার ওষুধও নিয়ম মতো খেয়ে যেতে হবে।

২- নিয়মিত সুগার, প্রেশার মাপতে হবে। এই সঙ্কটে বাইরে গিয়ে মাপা সম্ভব না হলে বাড়িতে সুগার এবং প্রেশার মাপার যন্ত্র দিয়ে মাপা চালিয়ে যেতে হবে।

৩- স্ট্রোকে আ’ক্রা’’ন্তদের সুস্থ হওয়ার জন্য রিহ্যাব’িলিটেশনে জরুরি। করো’না আবহে বাইরে গিয়ে রিহ্যাব’িলিটেশন অনেক সময়ই সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে বাড়ির অন্য সদস্যদের চিকিৎসকদের কাছ থেকে কিছু রিহ্যাব’িলিটেশন প’দ্ধতি শিখে নিতে হবে। তারপর তাঁরা বাড়িতে রোগীকে রিহ্যাব’ করাবেন।

৪- কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে আসুন। সমস্যা না হলে দুই-তিন মাস অন্তর পরামর’্শ নেয়া যেতে পারে।

৫- মর’শুমি ফল-শাকসব্জি সমৃ’দ্ধ সুষম খাবার খান।

করো’না ও স্ট্রোক-

করো’না জটিল স্তরে পৌঁছলে অনেকসময় তার থেকেও রোগী স্ট্রোকে আ’ক্রা’’ন্ত হচ্ছেন। করো’না থেকে স্ট্রোকের কারণ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতান্তর রয়েছে।

একদল বলছে, করো’না ভাই’রাস মস্তিষ্কের নিউরাল কোষে প্রবেশ করে সরাসরি স্ট্রোক বাধাচ্ছে। অ’পরদল বলছে, এই ভাই’রাস র’ক্তনালীর অভ্যন্তরের আস্তরণ এন্ডোথেলিয়ামকে সঠিকভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। তাই স্ট্রোক হচ্ছে।

অন্য একটি মত হলো, করো’নার কারণে শরীরের অভ্যন্তরে র’ক্ত চলাচলের সুস্থ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘা’ত ঘটছে। ফলে র’ক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ছে ও স্ট্রোক হচ্ছে। কারণ যাই হোক না কেন, করো’নার কারণে মানুষ দুই ধরনের স্ট্রোকেই আ’ক্রা’’ন্ত হচ্ছেন।

থ্রম্বোসিস (মস্তিষ্কে র’ক্ত জমাট বাঁধা) এবং হেমা’রেজিক (মস্তিষ্কে র’ক্তক্ষরণ)। করো’না থেকে এই দুই ধরনের স্ট্রোকের চিকিৎসার কোনো নির্দিষ্ট গাইডলাইন এখনও আসেনি। বিভিন্ন উপায়ে চিকিৎসা চলছে। আশার কথা হল, চিকিৎসায় বহু রোগী খুবই জটিল অবস্থা থেকেও সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।

স্ট্রোকে দ্রুত হাসপাতালে-

করো’নার কারণে বহু মানুষ হাসপাতালমুখী ‘হতে চাইছেন না। তবে স্ট্রোকে এমন করলে প্রাণ সংশয় ‘হতে পারে। তাই হঠাৎ শরীরের একদিকে দুর্বলতা, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বন্ধ ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসুন। যত তাড়াতাড়ি আসবেন, রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আশাও ততটাই বেশি।

About alamin

Check Also

চুল পড়া বন্ধ করবে নিমের রস

নারীর দীঘল কালো চুলের প্রেমে পড়েছেন কবি- সাহিত্যিকরাও। রচনা করেছেন কবিতা, গান, উপন্যাস। তবে তাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *